Banglar Unnoyon :: বাংলারউন্নয়ন.নেট

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল ‘শান্তিপূর্ণ’

নিউজ ডেস্ক

বাংলারউন্নয়ন.নেট কম

প্রকাশিত : ০৪:০০ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল ‘শান্তিপূর্ণ’। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয় ১ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে বিজয়ীদের তথ্য বিশ্লেষণ ও নির্বাচন নিয়ে সোমবার নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরে সুজন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।

সুজনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই সিটি নির্বাচনে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীরা তুলনামূলক বেশি নির্বাচিত হয়েছেন। উত্তরে ব্যবসায়ী জনপ্রতিনিধির সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়লেও দক্ষিণে সেটা কমেছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর মিলিয়ে বিজয়ী প্রার্থীদের ৩৪ দশমিক ২৪ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক–স্নাতকোত্তর। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ বছর নির্বাচিতদের ৫৮ দশমিক ৯০ শতাংশ স্বল্প শিক্ষিত অর্থাৎ এসএসসি বা তার নিচে। ২০১৫ সালে স্বল্প শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচিত ব্যক্তিদের ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশ স্বল্প শিক্ষিত। ২০১৫ সালে স্বল্প শিক্ষিত বিজয়ী প্রার্থী ছিলেন ৫১ দশমিক ৩২ শতাংশ। এবার দক্ষিণে বিজয়ীদের ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ২১ দশমিক ১০ শতাংশ।

ঢাকা উত্তরে নির্বাচিত ৭৩ জনপ্রতিনিধিদের ৮৬ দশমিক ৩০ শতাংশ বা ৬৩ জন ব্যবসায়ী। ২০১৫ সালে ব্যবসায়ী নির্বাচিত হয়েছিলেন ৬৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণে নির্বাচিত ১০১ জনপ্রতিনিধির ৭৬ জন বা ৭৫ দশমিক ২৫ শতাংশ ব্যবসায়ী। ২০১৫ সালে দক্ষিণে ব্যবসায়ী জনপ্রতিনিধি ছিলেন ৮০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার সংবাদ সম্মেলনে তথ্য–উপাত্ত তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছারও অভাব রয়েছে। ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অনেক কমেছে, যা একটি অশনিসংকেত।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচন ছিল নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। এবার অদৃশ্য কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলোর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতিকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে কারচুপির তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল সুজন, এবারও তারা সেই দাবি জানাচ্ছে।

বদিউল আলম বলেন, ব্যবসায়ী জনপ্রতিনিধির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বেশি সম্পদশালীরা বেশি নির্বাচিত হচ্ছেন। রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ আর ব্যবসায়ের রাজনীতিকীকরণ চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে পরাজয় মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। না হলে ভালো নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, সংসদ, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন—সব প্রতিষ্ঠান ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান মেরুদণ্ড নিয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

সুজন তাদের প্রতিবেদনে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোটার কম হওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরে।