Banglar Unnoyon :: বাংলারউন্নয়ন.নেট

জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজমিস্ত্রীর প্রতিবছর কাঙালিভোজ

ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলারউন্নয়ন.নেট কম

প্রকাশিত : ১২:০১ এএম, ২৬ আগস্ট ২০১৯ সোমবার

জনাব আব্দুল খালেক, পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি৷ অভাব-অনটনের সংসার৷ কিন্তু ভালোবাসার পথে অভাব-অনটন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না৷ সেটাই গত ৪৩ বছর ধরে প্রমাণ করে চলেছেন কুমিল্লার আব্দুল খালেক৷ মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে গরু জবাই করে প্রতিবছর ১৫ আগস্ট এলাকাবাসীকে কাঙ্গালি ভোজ করান আব্দুল খালেক৷

কুমিল্লার এক স্থানীয় বাসিন্দা বললেন, মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়ে সঞ্চয় করা অর্থে কাঙালিভোজের আয়োজন করেন রাজমিস্ত্রি আব্দুল খালেক। জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, প্রতি বছর এমন আয়োজন করেন এই রাজমিস্ত্রী। ৪৩ বছর ধরে চলছে তার এই স্বেচ্ছাসেবা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ স্থানীয়রাও।

কুমিল্লার এই বাসিন্দা বলেন, জনাব খালেকের মত অসংখ্য মুজিব প্রেমীর মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান৷

জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর ভক্ত কুমিল্লা মহানগরীর গোয়ালমথন গ্রামের রাজমিস্ত্রী আবদুল খালেক। অভাব অনটনের কারণে পড়ালেখা এগোয়নি বেশিদূর। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন আবদুল খালেক। সাক্ষী ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণেরও। ৭৪ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে দেখা করেছেন বঙ্গবন্ধুর সাথে।

এরপর থেকেই ভালোলাগা-ভালোবাসার মানুষ বঙ্গবন্ধু। পঁচাত্তরে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু শহীদ হওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রতিটি শোক দিবসে গরু জবাই করে কাঙালিভোজের আয়োজন করেছেন আবদুল খালেক। আর এ অর্থ যোগান আসে প্রতিদিন মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে।

দলে কোনো পদ না থাকলেও কুমিল্লায় এক নামে পরিচিত আবদুল খালেক। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার এমন ভালোবাসা মুগ্ধ করে স্থানীয়দের।

আবদুল মালেকের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করলেন খোদ জেলা প্রশাসকও। আশ্বাস দিয়েছেন যেকোনো ধরনের সহায়তার।

প্রতি বছর জাতীয় শোক দিবসে এ কাঙালিভোজের আয়োজন করা। তবে এবার ঈদের কারণে গেলো শুক্রবার করা হয় এই অনুষ্ঠান।