সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩

সর্বশেষ:
রোকেয়া পদক পাচ্ছেন ৫ নারী আবারও শ্বাসরুদ্ধকর জয়, ৭ বছর পর ভারতের বিপক্ষে সিরিজ বাংলাদেশের একশ’ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় বাংলাদেশের ছোঁয়া দেশের দ্বিতীয় ডিজিটাল পল্লি হবে শরীয়তপুরের ডামুড্যায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হলেন তোফাজ্জল হোসেন মিয়া
৩৮৩৯

জান্নাতির পরিবারের নুসরাতের মতো ‘সৌভাগ্য’ নেই

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৯  

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দুই মাসের মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ ও অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২০ জুন দিন ধার্য  করেছেন সেখানকার আদালত। সরকারের তড়িৎ পদক্ষেপে নুসরাতের পরিবার আশা করছে, তারা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে।

কিন্তু নুসরাতের পরিবারের মতো সৌভাগ্য হয়নি নরসিংদীর দশম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতি আক্তারের (১৬) পরিবারের। কেরোসিন ঢেলে জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যার পৌনে দুই মাস পার হলেও হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। আদালতে মামলা হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি পিবিআই। এদিকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে জান্নাতির হত্যাকারীরা। হত্যাকারীদের অব্যাহত হুমকির মুখে ভয়ে ও আতঙ্কে দিন কাটছে জান্নাতির পরিবারের সদস্যদের।

ঢাকায় ফেরি করে চা বিক্রি করেন নিহত জান্নাতির বাবা শরীফুল ইসলাম খান। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের একটি কুটিরে বসবাস করছেন। বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও চা বিক্রির টাকায় চলে তাঁদের সংসার।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে হাজিপুর  গ্রামের স্কুলছাত্রী জান্নাতি আক্তারের সঙ্গে পাশের খাচের চর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার প্রেম হয়। কিছুদিন পরই পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামীর আসল রূপ বেরিয়ে আসে। স্ত্রী জান্নাতিকে পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করতে শাশুড়ি শান্তি বেগম ও স্বামী শিপলু তাকে চাপ প্রয়োগ দিতে থাকেন। এতে রাজি হয়নি জান্নাতি। তাই তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। দরিদ্রতার কারণে যৌতুকের দাবি মিটাতে পারেননি জান্নাতির বাবা। ফলে জান্নাতির ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। যৌতুকের টাকা না দেওয়া ও মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী শিপলু, শাশুড়ি শান্তি বেগম ও ননদ ফাল্গুনী বেগম জান্নাতির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন।  দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি তারা। পরে এলাকাবাসীর চাপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ৪০ দিন যন্ত্রণার পর গত ৩০ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত জান্নাতির বাবা শরীফুল ইসলাম খান বলেন, মেয়ের শরীরে আগুন দেওয়ার পর পরই থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে আদালতে মামলা দায়ের করি। আদালত থেকে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এদিকে হত্যাকারীরা অব্যাহতভাবে আমাদের পরিবারকে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। মামলা করলে আমার ছোট মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে। একই সঙ্গে আমাদের সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি দিচ্ছে।

জান্নাতির মা হাজেরা বেগম বলেন, মেয়েটাকে ফুসলিয়ে তারা তুলে নিয়ে যায়। সে যখন তার ভুল বুঝতে পেরেছে, তখন তাদের বাড়ি থেকে চলে এসেছে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোর করে তাকে নিয়ে যায়। আমরা গরিব। তাই বাধা দিয়ে রাখতে পারিনি।

হাজেরা বেগম আরো বলেন, জান্নাতির শ্বশুরবাড়ির লোকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাই তারা পুলিশ ও আইনকেও তোয়াক্কা করে না। তাদের বিরুদ্ধে ১০-১২টি মামলা আছে। রয়েছে পুলিশের সঙ্গে সখ্য। তাই পুলিশ আমাদের মামলা নেয়নি।

এদিকে মৃত্যুর আগে আগুন দিয়ে পোড়ানোর বর্ণানা দিয়ে গেছে জান্নাতি। তার আর্তনাদ কেঁপে উঠেছিল পুরো হাসপাতাল চত্বর। পাশের বেডে থাকা এক রোগী ভিডিও ধারণ করেছে তার করুণ আর্তনাদ। সেখানে দেখা গেছে, মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিল সে। তীব্র ব্যথা সইতে না পেরে দরিদ্র বাবার কাছে ব্যথানাশক একটি ইনজেকশন দেওয়ার দাবি জানায়। সেখানে সে বলছিল, ‘তোমার কাছে জীবনে আর কিছুই চাইব না বাবা। একটি ব্যথানাশক ওষুধ দাও।’ কিন্তু দরিদ্র বাবা সেই ইনজেকশন কিনে দিতে পারেননি।

জান্নাতির বাবা বলেন, একটি ইনজেকশনের দাম সাত হাজার টাকা। আরেকটির দাম তিন হাজার ৮০০ টাকা। আমি দরিদ্র চা বিক্রেতা। এত টাকা পাব কোথায়? তাই মেয়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারিনি। ধার-কর্জ ও ঋণ নিয়ে যত দিন ওষুধ দিতে পেরেছি তত দিন বেঁচে ছিল। এরপর আর মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি। এখন শুধু একটাই দাবি। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল সরকার বলেন, নরসিংদীতে ফেনীর নুসরাতের মতো আরো একটি ঘটনার জন্ম নিয়েছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটলেও থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

আদালত সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বললেও পিবিআই পুলিশ তা দেয়নি। তাই মামলার কর্যক্রম বিলম্ব হচ্ছে। আসামিও গ্রেপ্তার হচ্ছে না।

নিহত জান্নাতির দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, জীবন দিয়ে মাদককে না করে গেছে আগুনে দগ্ধ জান্নাতি। প্রেমের টানে ঘর ছাড়লেও যৌতুক ও মাদক ব্যবসার কাছে নতি শিকার করেনি। তার মাদক ব্যবসায়ী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কঠোর বিচার চাই। জান্নাতির মতো করুণ পরিণতি যেন আর কারো না হয়।

নরসিংদীতে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ বলেন, সিআর (আদালতে মামলা) মামলা তদন্ত করতে একটু সময় লাগে। তার ওপর এটি একটি হত্যা মামলা। ঘটনাটিও বড়। তাই স্বচ্ছ ও পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষভাবে সঠিক চিত্র উঠিয়ে আনতেই সময় লাগছে। এরই মধ্যে আমরা প্রাথমিক তদন্তে জান্নাতির গায়ে আগুন দেওয়া ও পরে হত্যার ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আরো কিছু বিষয় আছে। সেগুলো শেষ হলেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে।

আসামিদের গ্রেপ্তার করা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, সিআর মামলায় পিবিআইয়ের গ্রেপ্তার করার বিধান নেই। তবে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করলে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারি।

আরও পড়ুন
দেশের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
  • টুঙ্গিপাড়ার চাষাবাদের আওতায় আসছে ৪ বিলের ৫০০ হেক্টর জমি 

  • কুমিল্লায় বোরো ধান চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

  • মুকুলে ভরে গেছে মেহেরপুরের আমবাগান

  • শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • এইচএসসির ফল প্রকাশ ৮ ফেব্রুয়ারি

  • ‘যতদিন বেঁচে থাকবো প্রযুক্তির উৎকর্ষের লড়াই নিয়েই বাঁচবো’

  • চট্টগ্রামে গড়ে তোলা হচ্ছে ৫টি অর্থনৈতিক জোন

  • সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্থ সড়কের মেরামত ও পুনর্বাসন কাজ শুরু

  • ডাক ও টেলিযোগাযোগ পদক পেলো ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

  • অঙ্গদানকারী সারাহ ইসলামের মৃত্যু নেই: বিএসএমএমইউ উপাচার্য

  • বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী জাপান: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সব দলের দায়িত্ব ও কর্তব্য’

  • এক পা নিয়েই সফল কৃষক শফিউল

  • বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কবি : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

  • পূর্বাচলের ৪টি সেক্টরে পানির সংযোগ দিচ্ছে রাজউক

  • কল করলেই শোনা যাবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ

  • যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার বার্তা

  • যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত রচনা করেছেন মতিউল ইসলাম

  • রাজশাহীতে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি

  • দায়িত্ব নিলেন বিজিবির নতুন মহাপরিচালক নাজমুল হাসান

  • ১ থেকে ৭ মার্চ, মোবাইলে কল করলেই শোনা যাবে ৭ই মার্চের ভাষণ

  • ১৪ বছরে রাজশাহীর উন্নয়ন, প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তিই বেশি

  • বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে ডেনমার্কের

  • খাগড়াছড়ির সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের চিত্র

  • প্রথম পাতাল রেলের কাজ উদ্বোধন ২ ফেব্রুয়ারি, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

  • “আওয়ামী লীগ দেশ ছেড়ে পালায় না” : রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী

  • বাংলাদেশিসহ সাড়ে ৮২ হাজার শ্রমিক নেবে ইতালি

  • রাজশাহীর সভামঞ্চে শেখ হাসিনা

  • বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পোশাক নেওয়ার প্রতিশ্রুতি

  • সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌবাহিনীর চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

  • বাংলাদেশে প্রথম হুন্দাই গাড়ি তৈরির কারখানা উদ্বোধন

  • পূর্বাচল পানি সরবরাহ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা

  • ২৬ জানুয়ারি পতাল রেলের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

  • ৬৩ দেশের ৯১১০ বিদেশি মেহমান অংশ নেয় ইজতেমায়

  • পূর্বাচল পানি সরবরাহ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা

  • মিঠামইনে হচ্ছে উড়াল সড়ক, আনন্দে ভাসছে হাওরবাসী

  • ২০২৬ সালে চালু হবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর

  • পাতালরেলের যুগে বাংলাদেশ

  • ঢাকার নবাবগঞ্জে হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ব্যয় ১৯১৫ কোটি

  • জিআই পণ্যে শক্তিশালী হচ্ছে দেশ

  • শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভিসা দেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতা মিলছে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  • ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ

  • টিসিবির জন্য ২৭৪ কোটি টাকার তেল-ডাল কিনছে সরকার

  • আমি নাকি মরে গেছি নিউজ হয়েছে! কি পরিমাণ গুজব : ওবায়দুল কাদের

  • ‘প্রশিক্ষণের জন্য নাবিকদের আর যেতে হবে না বিদেশ’

  • যশোরের ফুল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে বিদেশে

  • কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবায় অ্যাপ

  • জুনে নতুন আলোয় আলোকিত হতে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চল

  • জুনে নতুন আলোয় আলোকিত হতে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চল

  • রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া

  • মার্চ থেকে সরকারি হাসপাতালেই চেম্বার করতে পারবেন চিকিৎসকরা

  • নাটোরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মহিলা কলেজের রজতজয়ন্তী 

  • ডিসেম্বরে আসছে মাতারবাড়ির বিদ্যুৎ

  • ‘প্রতিটি বিভাগেই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ হবে’

  • ২৫ জানুয়ারি থেকে মেট্রোরেলের নতুন সময়সূচি

  • লটারির মাধ্যমে মিলছে গোল্ডেন মোবাইল নম্বর

  • ক্যাশলেস সোসাইটির যুগে বাংলাদেশ

  • চলতি বছরই রেল যাবে কক্সবাজার

  • উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছতে পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক