রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১

সর্বশেষ:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক ছুটি ৭৫ দিন আগামী মার্চে ঢাকা উত্তর সিটির ভোটের ইঙ্গিত সিইসির আস্থা ভোটে টিকে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নেপালের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ইসি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: নূরুল হুদা বারবার আসতে পারব না, যত খুশি সাজা দিন: খালেদা জিয়া ‘আকাশবীণার’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ত্রিভুবনে আবারও বিমান দুর্ঘটনা ট্রেন-বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২৫ ভুয়া ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে মিয়ানমার: প্রধানমন্ত্রী
৫১৭

মসলিনের সোনালি যুগে ফিরছে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

গল্পগুলো বিস্ময়ের, গর্বের। যা ছিল বাংলাকে বিশ্বের কাছে সুপরিচিত করার মাধ্যম। সেই গর্ব, বিস্ময়, ঐতিহ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায়, একদল গবেষকের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৭০ বছর পর আবার ফিরেছে বাংলায়, বাংলাদেশে। মসলিন এক ধরনের মিহি সুতিবস্ত্র। মূলত ‘ঢাকাই মসলিন’ নামে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। ফুর্টি কার্পাস তুলা থেকে উৎপন্ন অতি চিকন সুতা দিয়ে তৈরি হয় এই কাপড়।  

১৮৫০ সালে লন্ডনে প্রদর্শনের ১৭০ বছর পর বাংলাদেশে বোনা হলো ঐতিহ্যবাহী মসলিন শাড়ি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক মো. মনজুর হোসেনের নেতৃত্বে ১৭০ বছর পর ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে ঢাকাই মসলিন। তার নেতৃত্বে দেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষকের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সেই মসলিনের আদলে তৈরি হয়েছে এই শাড়ি।

এর মধ্যে দিয়ে তার অনেক সফলতায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি সাফল্যের পালক। তার হাত ধরে চলা দীর্ঘ গবেষণা শেষে হারানো ‘ঢাকাই মসলিন’ এখন বাংলাদেশেরই। গবেষকদের দীর্ঘ ছয় বছরের প্রচেষ্টায় মিলেছে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি। গত ২৮ ডিসেম্বর ঢাকাই মসলিনকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। তাই বহু বছর পর হলেও শিগগিরই মসলিনের যুগে শুভ সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

গবেষকরা দীর্ঘ ছয় বছরের প্রচেষ্টায় আবারও মসলিন বুনতে সফল হয়েছেন। এরপরই মিলেছে স্বীকৃতি। সব কিছু ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। মার্চের পর শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। আর প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়টা হবে বাণিজ্যিকভাবে ‘ঢাকাই মসলিনের’ উৎপাদন শুরু করা। তাই বলা যায় ফের সফলতার চূড়ায় উঠেবে ঢাকাই মসলিন। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্টরা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এ কাপড় তৈরির বাণিজ্যিক কারখানা নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছেন। গবেষণায় সফলতা আসায় এবার বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাচ্ছে এই বিখ্যাত কাপড়।

বিখ্যাত কেন? কারণ এক সময় বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছিল ঢাকাই মসলিনের। কালান্তরে এমন গল্পও আছে যে, ৫০ মিটার দীর্ঘ মসলিনের কাপড়কে একটি দিয়াশলাই বক্সে ভরে রাখা যেত। ১০ গজ দৈর্ঘ্য, ১ গজ প্রস্থের একটি মসলিন কাপড় ছোট্ট একটা আংটির মধ্য দিয়ে আনা-নেওয়া করা যেত। এর ওজন ছিল মাত্র ৬-৭ তোলা! কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী এই ঢাকাই মসলিনের তাই পুনর্জন্ম ঘটেছে বলা যায়।

এর আগে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকাই মসলিন তৈরির প্রযুক্তি ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটির কিছু বেশি টাকা। প্রকল্পে সবচেয়ে কঠিন ধাপ ছিল মসলিনের কাঁচামাল ফুর্টি কার্পাস জাতের তুলা গাছের সন্ধান পাওয়া।

ইতিহাস বিশ্লেষণ করে অনেক অনুসন্ধানের পর ২০১৭ সালে ঢাকার গাজীপুরের কাপাসিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে মেলে ফুর্টি কার্পাস জাতের তুলা গাছ। খবর পেয়ে গবেষকরা গিয়ে তুলার ধরন দেখে নিশ্চিত হন, এ দিয়ে মসলিন কাপড় তৈরি করা সম্ভব। এরপর সুতা কাটার জন্য নতুন করে তৈরি চরকা দিয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা সুতায় ৪০ তাঁতির মসলিন তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় দুই বছর। আর তাঁতপিট লুম চালানের প্রশিক্ষণ দেওয়া ছয়জনকে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে এই ছয়জন তাঁতি দিয়ে কুমিল্লার চান্দিনায় ৩০০ থেকে ৪৫০ কাউন্টের সুতা বানানো হয়।

সেই সুতা দিয়ে সোনারগাঁওয়ে বানানো হয় মসলিন কাপড়। প্রায় ৩০০ বছর পর সেই সুতা দিয়ে তৈরি করা যায় মোট ছয়টি শাড়ি। যার মধ্যে একটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

গবেষক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মসলিনের কাপড় দেখতে ও সুতা সংগ্রহ করতে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট মিউজিয়াম ভ্রমণ করেন একদল গবেষক। এছাড়া বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায় মসলিন সুতা তৈরি হতো, তা জেনে সে প্রযুক্তি উদ্ধারেরও চেষ্টা চলতে থাকে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।

পরে গবেষণাকাজের স্বার্থে আরও সাত সদস্যকে এই কমিটিতে সংযুক্ত করা হয়। তবে কাজের শুরুতে মসলিন কাপড় বা তুলার কোনো নমুনাই গবেষদের কাছে ছিল না। তাদের প্রথম কাজ ছিল- তুলা থেকে সুতা কেটে মসলিন শাড়ি বোনা হতো, এমন তুলার গাছ খুঁজে বের করা।

এই কাজ শেষ করার জন্য ‘বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিন সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা করা হয়- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মনজুর হোসেনকে। আর বাংলাদেশে তাঁত বোর্ডের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আয়ুব আলী প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মনজুর হোসেন জানান,  প্রায় দুই বছর আগে মসলিনের পাঁচটি নমুনা দিয়ে জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে বাংলাদেশ। বেশ কয়েকমাস আগে স্বীকৃতি পেলেও গেলো ২৮ ডিসেম্বর ঢাকাই মসলিনকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ হয়। এতে মসলিনের উৎপত্তি, বুনন পদ্ধতি ও সুতা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের তা আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে এখন থেকে সারা বিশ্বে মসলিন নামে আর কেউ কোনো পণ্য তৈরি করতে পারবে না।

অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন আরও বলেন, প্রথম প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজ  শিগগিরই শুরু হবে। তখন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশে আবারও ঐহিত্যবাহী ‘ঢাকাই মসলিন’র বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে।  

এতে বাংলাদেশ আবারও নতুন করে মসলিনের স্বর্ণালি অধ্যায়ে পা রাখার এক অপার সম্ভাবনার কথা জানান- মসলিনের এই মুখ্য গবেষক।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
  • ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে চলমান লকডাউন : কাদের

  • করোনায় স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয়ে ৬৪ জেলার দায়িত্বে ৬৪ সচিব

  • চাইলে বাংলাদেশকে টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

  • পদ্মা সেতুর অগ্রগতি ৯৩ শতাংশের বেশি

  • মুজিব নগর সরকারের দলিল পত্রসমূহ

  • ইসলামের জন্য বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক অবদান

  • গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জন কেরির সৌজন্য সাক্ষাৎ

  • রাজধানীর দুই এলাকায় করোনার সর্বাধিক সংক্রমণ

  • চলতি বছরই ২০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান: পলক

  • ‘বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাই বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ভিত্তি’

  • দেশে অরাজকতার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

  • স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় একাত্তরের ১০ এপ্রিল

  • ‘নিরাপদ মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার’

  • বইমেলা শেষ হচ্ছে ১২ এপ্রিল: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

  • বহুমুখী প্রকল্পে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিপ্লব

  • করোনার ইস্যুতে ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন ৬৪ সচিব

  • সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

  • কাস্টমস ও ভ্যাট: করোনাকালেও চলছে ২৪ ঘণ্টা সেবা

  • ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম ঘোষণা সোমবার

  • নদীর বুকে পুকুর-ফসলি জমি

  • যৌবন ফিরেছে তিস্তায়, কৃষক-জেলেদের স্বস্তি

  • মুড়ির গ্রাম তিমিরকাঠি, ঘরে ঘরে ব্যস্ততা

  • ১৭২ কোটি ব্যয়ে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে বিপ্লব

  • আগাম পাহাড়ি কাঁঠালে বাড়ছে চাহিদা

  • আইসিটি খাতকে জরুরি সেবার আওতায় দেখতে চান উদ্যোক্তারা

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ৫৩২ শতাংশ

  • বোরো সংগ্রহে ব্যবহার হবে আধুনিক কৃষিযন্ত্র

  • উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের অগ্রগতি ৮৪ শতাংশ

  • শিমের লবণসহিষ্ণু নতুন জাত উদ্ভাবন

  • এবার ভারত থেকে জি-টু-জিতে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত

  • মধুমতিতে নির্মিত হচ্ছে  ৬ লেনের সেতু

  • ২৫ মিনিটে প্রদক্ষিণ করা যাবে ঢাকা

  • রাজধানীতে নামছে ৬০টি দ্বিতল বাস

  • লকডাউনে থেমে নেই মেগা প্রকল্পগুলো

  • মাঠজুড়ে বোরো ধানের সবুজ সমারোহ

  • গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা 

  • মসজিদে নামাজ আদায়ে নতুন নির্দেশনা

  • তারাগঞ্জে সূর্যমুখীর চাষ বেড়েছে 

  • করোনা সংক্রমণ রোধে ফুলহাতা শার্ট পরার নির্দেশ পুলিশের

  • দেশের বাইরেও খ্যাতি ছড়িয়েছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘মেজবান’

  • যানজট নিরসনে ঢাকায় হবে ৬১ কিলোমিটার পাতাল রেল

  • ১১ নির্দেশনা দিয়ে লকডাউনের প্রজ্ঞাপন, না মানলে আইনি ব্যবস্থা

  • জোর করে ঘরে রাখার চেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি

  • লকডাউন শুরু

  • সোলার প্ল্যান্টে সেচ সুবিধা, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

  • উৎসব-নববর্ষ-বিজয় দিবস ভাতা পাবেন সব বীর মুক্তিযোদ্ধা

  • লকডাউনে ব্যাংক লেনদেন আড়াই ঘণ্টা

  • শতবর্ষী ঐতিহ্য, আতাইকুলার লুঙ্গি-গামছার হাট

  • পদ্মা সেতুর অগ্রগতি ৯৩ শতাংশের বেশি

  • বুধবার থেকে চলবে গণপরিবহন

  • আন্তরিকভাবে কাজ করতে এনএসআই’র প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • করোনা টেস্টের ফি দেওয়া যাচ্ছে ‘নগদ’-এ

  • বাম্পার ফলনের তরমুজ নিয়ে বিপাকে চাষি

  • মেগা প্রকল্পে বদলাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল

  • উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা: প্রধানমন্ত্রী

  • রোহিঙ্গাদের প্রতি অসাধারণ মানবতায় কৃতজ্ঞ বাইডেন

  • রাঙামাটিতে তরমুজের ফলন ভালো, খুশি কৃষক-ব্যবসায়ী 

  • হাজারো মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছে যে বন্দর

  • অবশেষে চালু হলো গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প

  • কাল থেকে গণপরিবহন বন্ধ : সেতুমন্ত্রী