রোববার   ১৩ জুন ২০২১

সর্বশেষ:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক ছুটি ৭৫ দিন আগামী মার্চে ঢাকা উত্তর সিটির ভোটের ইঙ্গিত সিইসির আস্থা ভোটে টিকে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নেপালের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ইসি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: নূরুল হুদা বারবার আসতে পারব না, যত খুশি সাজা দিন: খালেদা জিয়া ‘আকাশবীণার’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ত্রিভুবনে আবারও বিমান দুর্ঘটনা ট্রেন-বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২৫ ভুয়া ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে মিয়ানমার: প্রধানমন্ত্রী
১১১

বিজ্ঞান চর্চার নিরন্তর সাধক

আসিফ কবীর

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২১  

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া পরমাণু বিজ্ঞানী হিসেবেই দেশবাসীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী- এই দুই পরিচয় ছাপিয়ে তার ছিল নিজস্ব পরিচয় ও অবস্থান। ছাত্রজীবনে তিনি প্রগতিশীল রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি একজন খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের ভৌতবিজ্ঞান সদস্য ছিলেন এবং পরে চেয়ারম্যানও নিযুক্ত হয়েছিলেন।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার অন্তর্গত পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামে এক সল্ফ্ভ্রান্ত মুসলিম 'মিয়া' পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালে ছাত্রলীগে যোগদান করলে তাকে ফজলুল হক হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সে সময় শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবির জন্য ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে অন্যদের সঙ্গে তিনিও গ্রেপ্তার হন এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েক মাস অন্তরীণ থাকা অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি ১৯৬১ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালের ১ এপ্রিল পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে যোগদান করার পর লাহোরে প্রশিক্ষণে থাকা অবস্থায় বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৪ সালে ওই কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এমএস ডিগ্রি এবং ১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডের 'দারহাম বিশ্ববিদ্যালয়' থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনের অধীনে আণবিক শক্তি কেন্দ্র, ঢাকায় ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

মুক্তিযুদ্ধকালে ড. ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন শেখ হাসিনা, বেগম মুজিব, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেলের ভরসার স্থল। ড. ওয়াজেদ বঙ্গবন্ধুর ভবন ত্যাগ করে ধানমন্ডি ৮নং সড়কের বঙ্গবন্ধুর এক হিতাকাঙ্ক্ষীর বাসায় সবাইকে নিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয় তখন তিনি স্ত্রীসহ পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে দেশ-বিদেশে তার যথেষ্ট পরিচিত ছিল। নিউক্লিয়াসের গড়ন ও নিউক্লীয় বর্ণালি বিষয় ছিল তার গবেষণার বিষয়। তিনি সর্বক্ষণ চিন্তা করতেন কীভাবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে পরমাণু শক্তি কমিশন প্রতিষ্ঠায় তার অবদান সর্বজনস্বীকৃত। পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এইআরই), সাভার এবং সেখানে স্থাপিত দেশের একমাত্র গবেষণা রি-অ্যাক্টর তার প্রচেষ্টার ফসল। এ ছাড়া কমিশনের বর্তমান প্রধান কার্যালয় ভবন তারই অবদান। তিনি বেশ কয়েকটি মূল্যবান বই (পদার্থবিজ্ঞান) রচনা করেন। ওইসব বই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে।

১৯৯৩ সালে সরকার ড. ওয়াজেদ মিয়াকে অধিকতর দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে কমিশনের সদস্য (ভৌতবিজ্ঞান) নিয়োগ দান করেন। ইতোমধ্যে চেরনোবিল দুর্ঘটনায় সারা বিশ্বেই তেজস্ক্রিয় প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে এ বিষক্রিয়ার প্রভাব দেখা দিলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে দায়িত্ব দিলে ড. ওয়াজেদ মিয়াকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর ছাত্রদল নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আণবিক শক্তি কেন্দ্রকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ওই স্থানে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আবাসিক হল স্থাপনের ঘোষণা দেয়। বিএনপি সরকার ওই প্রতিষ্ঠানটিকে সরানোর নির্দেশ দিলে কমিশনের বিজ্ঞানীদের মধ্যে একমাত্র ড. ওয়াজেদ মিয়াই প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন। এর ফলেই প্রতিষ্ঠান এখনও ওই স্থানেই বহাল অবস্থায় গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ড. ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণামূলক লেখার মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। ১৯৯৭ সালে তাকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে সরকার। তিনি ছিলেন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী। তার মনে রাখার ক্ষমতাও ছিল অত্যন্ত প্রখর। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা জার্নালে তার বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিমান বিজ্ঞানীর মর্যাদা এনে দিয়েছে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল ড. ওয়াজেদ মিয়ার। তার প্রশাসনিক দক্ষতা ছিল ঈর্ষণীয় এবং অনুসরণীয়। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সার্ভিস রুল প্রণীত হয়। জাতীয় উন্নয়নে বিজ্ঞানের ভূমিকা এবং এ মহৎ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৮১ সালে ঢাকার পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রথম কৃষি গবেষণা কর্মকাণ্ড শুরু করে। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে পৃথক হয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) নামে অভিহিত হয়। তার অবদান সবসময়ই স্মরণযোগ্য হয়ে থাকবে। ২০০৯ সালের ৯ মে ইন্তেকাল করেন ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। গভীর শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ করি।

লেখক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ।

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
  • বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি

  • প্রচার প্রচারণায় জমে উঠেছে সেতাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন

  • ‘চাঁদপুরের মোলহেডকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলবো’

  • আ.লীগের উদ্যোগে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ

  • মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আরও ১৬ বীরাঙ্গনা

  • ‘বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীকে উদ্ভাবনে জড়িত করা দরকার’

  • আরএমপির শাহমখদুম ক্রাইম বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

  • পাকা আমের সুবাসে মাতোয়ারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ

  • দাদার কাঁচামিঠা আমের জাত ধরে রাখলেন নাতি

  • বাণিজ্যিকভাবে থাই কৈ মাছ চাষ করার পদ্ধতি

  • নড়াইলে ৭ দিনের আংশিক লকডাউন শুরু

  • বরিশালে ৭১২৭ পরিবার পাচ্ছে সুসজ্জিত নতুন বাড়ি

  • ইউএসজিবিসি’র স্বীকৃতি পেল দেশের ১৪৩ কারখানা

  • এবারও বিশ্বসেরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

  • প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে প্রোগ্রামিং শেখার পাঠ্যবই

  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল

  • ‘শেখ হাসিনা আধুনিক-বিজ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশের রূপকার’

  • আরো ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান: নৌ প্রতিমন্ত্রী

  • করোনার টিকার জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আবারো বাড়লো

  • ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ : পরীক্ষা আয়োজনে এসপিদের চিঠি

  • গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য

  • কে কোন ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছেন

  • ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাড়ি!

  • দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে সোনার পদক বাড়ছে বাংলাদেশের

  • ইলেকট্রিক এয়ার পিউরিফায়ার আনলো টগি সার্ভিসেস

  • রানি এলিজাবেথের জন্মদিনে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

  • ডিজিটাল বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে মেধাবী তরুণরা : পলক

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত

  • মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন আরও ১৬ বীরাঙ্গনা

  • উন্নয়ন বজায় রাখতে ৬,০৩,৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উত্থাপিত

  • এবার একসঙ্গে মেট্রোরেলের ১২ কোচ আনার পরিকল্পনা

  • ‘একাত্তরে বাংলাদেশে সামরিক অভিযান ছিলো ভুল সিদ্ধান্ত’

  • ৯০-এর বেশি বয়সীদের জন্য বিশেষ বয়স্ক ভাতা চালু হচ্ছে

  • ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস আজ

  • খুলনায় ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু

  • ১৩ জুন আসছে চীনের ৬ লাখ টিকা 

  • দেশের যেকোনো স্থানে ৫০০ টাকায় মিলবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

  • উত্তরাঞ্চলে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার পরিকল্পনা

  • অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার অবসান

  • প্রবাসীদের সম্মানে বিশ্বনাথে দেশের প্রথম ‘প্রবাসী চত্বর’

  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ

  • সারা দেশে শুরু টিসিবির পণ্য বিক্রি

  • রপ্তানিতে আয় ১১২ শতাংশ বেড়েছে

  • ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত

  • নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়বে, কারণ...

  • স্বপ্নের লেবুখালী সেতু: মাত্র ৫ ঘণ্টায় কুয়াকাটা

  • ‘কৃষকের জানালা’ অনুসরণে মিলছে সফলতা

  • সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি

  • বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম এখন দেশেই

  • দেশে হ্যান্ডসেট উৎপাদন-সংযোজনে আরও ২ বছর ভ্যাট অব্যাহতি  

  • তরুণ বিজ্ঞানীর অটো ড্রেন ক্লিনার বাঁচাবে সময়-টাকা

  • করোনাকালেও উড়াল রেলপথ নির্মাণে উড়ন্ত গতি

  • ৬৪ জেলায় ৫৫০ বিডিসেট স্থাপন হবে: পলক

  • ৪৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রিজার্ভ

  • ৫০ মডেল মসজিদ উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

  • সারাদেশে ৫০০ টাকায় মাসব্যাপী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

  • নতুন মাত্রায় কর্ণফুলী টানেল

  • বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে এখন পর্যন্ত টোল আদায় ৬৪৩৪ কোটি টাকা

  • চাঁদপুরে ডিজিটাল সেবায় ভাতার আওতায় ১ লাখ ৮৯ হাজার মানুষ