রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সর্বশেষ:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক ছুটি ৭৫ দিন আগামী মার্চে ঢাকা উত্তর সিটির ভোটের ইঙ্গিত সিইসির আস্থা ভোটে টিকে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নেপালের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ইসি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: নূরুল হুদা বারবার আসতে পারব না, যত খুশি সাজা দিন: খালেদা জিয়া ‘আকাশবীণার’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ত্রিভুবনে আবারও বিমান দুর্ঘটনা ট্রেন-বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২৫ ভুয়া ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে মিয়ানমার: প্রধানমন্ত্রী
৬৩

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাঃ রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান

মােহাম্মদ শাহজাহান:

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

২২ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। গণআন্দোলনের চাপে ৫১ বছর আগে ১৯৬৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব কান কুখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবসহ সব অভিযুক্তকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ওই মামলার এক নম্বর আসামি। আইয়ুব খান আজীবন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট থাকতে চেয়েছিলেন। আইয়ুবের অভিলাষ পূরণের পথে এক নম্বর বাধা ছিলেন পূর্ব বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয়, অসম সাহসী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ওই সময় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযােগে মুজিবকে ফাঁসিতে হত্যা করাই ছিল আইয়ুব গংয়ের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু আইয়ুব মােনায়েমদের আশা অবশেষে দূরাশায় পরিণত হয়। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, সরকার পক্ষের অভিযােগ এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে-পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন করাই ছিল শেখ মুজিবের মূল লক্ষ্য।
 
ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র আসলে মিথ্যা ছিল না। পাকিস্তান সরকার এ মামলার নাম দিয়েছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এ মামলাকে একবার বলেছিলেন 'ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' উল্লেখ্য, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দেশপ্রেমিক বাঙালিদের মধ্যে অনেকেই বুঝে যান, পাকিস্তান স্বাধীন হলেও বাঙালিরা স্বাধীন হয়নি। শাসকের পরিবর্তন হয়েছে মাত্র। ব্রিটিশের পরিবর্তে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকারীরা রাস্ট্রের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়েছেন। ষাটের দশকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ কিছু সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ একদল বাঙালি বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা করে। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সম্মতি নিয়ে একটি বিপ্লবী সংস্থা গঠন করেন। স্বাধীনতাকামী এ বীর সন্তানের পরিকল্পনা ছিল-“কোনাে একটি নির্দিষ্ট রাতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সবক'টি ক্যান্টনমেন্ট হামলা চালানাে হবে এবং পশ্চিম পাকিস্তানিদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাদের বন্দী করে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘােষণা করা হবে।' অন্যতম অভিযুক্ত কর্নেল শওকত আলী 'সত্য মামলা আগরতলা' শিরােনামে একটি বই লিখেছেন। চারবারের এমপি এবং ডেপুটি স্পিকার (সাবেক) কর্নেল শওকত আলী স্বীকার করেছেন, আগরতলা মামলা সত্য ছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলগত কারণে বঙ্গবন্ধুসহ আমরা সবাই বিশেষ ট্রাইব্যুনালে, বিচার চলাকালীন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলাম।
 
আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৩৫ জন। মামলা প্রত্যাহারের এক সপ্তাহ আগে পাকি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা একজনকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করে। অভিযুক্তি আসামিদের মধ্যে কয়েকজন সিএসপিসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছিলেন। শুরুর দিকে শেখ মুজিব আসামির তালিকায় ছিলেন না। ১৯৬৮ সালের ১ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা মামলার ব্যাপারে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। পরদিন ২ জানুয়ারি (১৯৬৮) করাচির দৈনিক ডন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সরকার রাজনীতি এবং সরকারি চাকরির সঙ্গে জড়িত কিছু রাষ্ট্রদ্রোহী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রেডিও পাকিস্তানের খবরে বল হয়, সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের অভিযােগে দুজন সিএসপিসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকারের আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের জড়িত থাকার কথা বলা হয় । কারাগারে থাকা শেখ মুজিবকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানাে হয়েছে। উল্লেখ্য, ৬ দফা দাবি দেয়ার পর ১৯৬৮ সালের ৮ মে রাতে দলের শীর্ষ নেতাদেরসেহ শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়। সেই থেকে প্রায় পৌনে ২ বছর তিনি জেলেই ছিলেন।
 
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী শেখ মুজিব বই পড়ে আর গুণ গুণ করে গান গেয়ে সময় কাটাতেন। ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে হঠাৎ কক্ষের বাইরে থেকে দরজায় ধীরে আঘাত করা হয়। ওই সময় গভীর নিদ্রায় মগ্ন ছিলেন শেখ মুজিব। প্রথম টোকায় জেগে গেলেন জেলসাথী আবদুল মােমেন। ডেপুটি জেলার তােজাম্মেল হােসেন জেল গেটের বাইরে অপেক্ষা করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে শ্রদ্ধা করতেন ডেপুটি জেলার তােজাম্মেল হােসেন। তােজাম্মেল হােসেন দরজার কাছে এসে বললেন, দরজা খুলতে হবে স্যার।' জেলসাথী আবদুল মােমেন দরজা খুলে দিলেন। জেল কক্ষে প্রবেশ করলেন তােজাম্মেল হােসেন এবং সিপাহী আম্বর আলী। তখনও ঘুমাচ্ছিলেন শেখ মুজিব। তারা কক্ষে ঢােকার পর বঙ্গবন্ধুর ঘুম ভেঙে যায়। চোখ কচলিয়ে বললেন, বলুন, কি খবর। একই সঙ্গে বললেন, দুঃসংবাদ বা সুসংবাদ, কোনাে খবরই খারাপ নয়। একটি আদেশ শেখ মুজিবের হাতে দিয়ে ডেপুটি জেলার বললেন, 'আপনাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে স্যার।' গত কিছুদিন ধরেই জেল কক্ষে থেকে তিনি নানা খবর পাচ্ছিলেন। আগরতলা মামলায় তাকে জড়ানাের চেষ্টা চলছে। হঠাৎ কারামুক্তির আদেশের কথা শুনে নির্লিপ্তভাবেই বলে ফেললেন, "নতুন কোনাে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই কি আমাকে খালাস দেয়া হয়েছে?' ডেপুটি জেলার ও সিপাহী নীরব রইলেন। শেখ মুজিব দীর্ঘশ্বাস ফেলে উচ্চারণ করলেন, বুঝলাম, সংগ্রাম আসন্ন। মুক্তির সংগ্রাম এগিয়ে আসছে, বাংলার মুক্তির।'
 
গভীর রাতে মুক্তির আদেশের কথা শুনে মুজিবের মন করছিল, তার বিরুদ্ধে নতুন আরেকটি চক্রান্ত শুরু হয়েছে। বিদায়ের পূর্বে আবদুল মােমেনকে বুকে জড়িয়ে ধরে বাংলার মুক্তিসংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিব বললেন, বন্ধু, আপনাদের কাছে বাংলাদেশকে রেখে গেলাম। জানি না, ওরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে। হয়তাে বাংলার মাটি থেকে এই আমার শেষ যাত্রা। যাবার বেলায় শুধু এ কথাটি বলে যাই-এই বাংলাদেশের সঙ্গে আমি কোনদিন বেঈমানি করিনি। কোনদিন করব না। আপনারা রইলেন, বাংলাদেশ রইল। এই দেশকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সার্বভৌম স্বাধীনতাই আমার স্বপ্ন, আমার লক্ষ্য। এ সময় মুজিবের দুই চোখ থেকে তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে।
 
জেল গেট থেকে বের হয়ে আসার পর একটি সামরিক ভ্যান সঙ্গিন উচিয়ে দাঁড়াল মুক্তি মুজিবের সামনে। বিজাতীয় ভাষায় বলা হলাে- তুমি আবার গ্রেফতার।' এ সময় শেখ মুজিব জেল গেটের সামনের রাস্তা থেকে এক মুঠো মাটি তুলে নিজ কপালে স্পর্শ করে বিধাতার কাছে প্রার্থনা করলেন-'এই দেশেতে জন্ম আমার যেন এ দেশেতেই মারি।'
 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার জামাতা ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশন আয়ােজিত ৬ সপ্তাহব্যাপী এক কর্মশালায় যােগদানের আমন্ত্রণ পান। ইসলামাবাদ যাওয়ার আগে ড. ওয়াজেদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যান । বঙ্গবন্ধু তখন এক সপ্তাহ ধরে বাতের ব্যাথায় ভুগছিলেন। দু'জন লােকের কাধে ভর করে তিনি জেলে নির্ধারিত কক্ষে তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। ইসলামাবাদে যাওয়ার কথা শুনে কিছুক্ষণ চিন্তা করে যাওয়ার অনুমতি দেন। সাক্ষাৎকার শেষে জেলে ফিরিয়ে নেওয়ার মহূর্তে তিনি ওই দুই কারা কর্মচারীকে বলেন যে, তিনি জামাইয়ের কাধে ভর করে গেট পর্যন্ত যাবেন। জামাতার কাঁধে ভর করে যাওয়ার একপর্যায়ে তিনি ফিসফিস করে বলেন, 'তুমি ইসলামাবাদ গিয়ে তােমার সহকর্মীদের-বিশেষ করে পাঞ্জাবি সহকর্মীদের জেনে নেবে। ব্যাটাদের এবার দেখিয়ে দেব।'
 
২০ জানুয়ারি (১৯৬৮) রাতে ড. ওয়াজেদ তার ভাগ্নের কাছ থেকে জানতে পারেন, পাকিস্তান সামরিক গােয়েন্দা বাহিনীর গােয়েন্দা বিভাগের লােকজন শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযােগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ আইনের আওতায় গ্রেফতার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। ভাগ্নে গােপন সূত্রে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার খবরটি জানতে পেরেছেন। ইসলামাবাদে কর্মশালায় অবস্থান করা ড. ওয়াজেদ উপলব্ধি করেন, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরদিন থকে পশ্চিম পাকিস্তানি শিক্ষক ও ছাত্ররা তাকে অনেকটা এড়িয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ড. ওয়াজেদ ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেন। বিমানে একটি ইংরেজি পত্রিকায় দেখেন, শেখ মুজিব এবং তিনজন ঊর্ধ্বতন সিএসপি কর্মকর্তাসহ মােট ৩৫ জন সামরিক ও বেসমারিক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযােগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধানমণ্ডির বাসায় পৌছে তিনি দেখেন, সবাই চুপচাপ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত । কিছুক্ষণ পর বেগম মুজিব জামাতাকে নিচু স্বরে বলেন, 'বাবা ১৮ জানুয়ারি গভীর রাতে (১৭ জানুয়ারি দিবাগত মধ্য রাতে) তােমার শ্বশুরকে সামরিক বাহিনীর গােয়েন্দা বিভাগের লােকজন রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযােগে গ্রেফতার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। গত সপ্তাহ থেকে বহু জায়গায় এবং বহু লােকের সঙ্গে যােগাযােগ করে এখন পর্যন্ত জানতে পারিনি তিনি কোথায় কি অবস্থায় আছেন।' এ কথা বলার সময় বেগম মুজিব কোনাভাবেই অশ্রু সংবরণ করতে পারছিলেন না।
 
শেখ মুজিবকে আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার খবরে পূর্ব বাংলার বিদ্রোহের আগুন জলে উঠে। মামলা, হামলা, গ্রেফতার, নির্যাতনে বিধ্বস্ত আওয়ামী লীগও চুপচাপ বসে থাকেনি। গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে ১৯ জানুয়ারি (১৯৬৮) ঢাকায় জগন্নাথ কলেজের ছাত্ররা মুজিবের মুক্তি দাবিতে পূর্ণ ধর্মঘট পালন করে। ২১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি এক জরুরি সভায় শেখ মুজিবকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযােগসহ দেশের প্রচলিত আদালতে বিচারকার্য পরিচালনা করার দাবি জানানাে হয়। ২৬ জানুয়ারি ছাত্রলীগও ছাত্র ইউনিয়ন এক যৌথ সভায় শেখ মুজিবের মুক্তির দাবি জানায়। মুজিবের স্বপক্ষে এসব ত্বরিত প্রতিক্রিয়ার পর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাইস এডমিরাল এ আর খান এক বিবৃতিতে জানান, পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযােগে অভিযুক্ত আটক ২৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তকার্য প্রায় সমাপ্ত হয়েছে এবং শিগগিরই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের প্রকাশ্য বিচার হবে । ( দৈনিক সংবাদ, ২৭/১/১৯৬৮)
 
পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উক্ত বিবৃতির পর পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে খুবই দ্রুততার সঙ্গে পাল্টা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ছাত্র সংগঠনগুলাে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ উপলব্ধি করতে থাকে। ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন উভয় গ্রুপ যৌথভাবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে দাবি দিবস পালন করে। ছাত্র ইউনিয়নের দুই দ্রুপ এবং ছাত্রলীগ-এই তিনটি সংগঠন ঐব্যবদ্ধভাবে ওই বছর একুশে ফেব্রুয়ারিও পালন করে। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৪৯তম জন্মদিন পালন করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচিগুলাে পালন করার মূল লক্ষ্যই ছিল শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ইস্যুটিকে জনগণের সামনে জোরালােভাবে নিয়ে আসা। ২১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এক অধ্যাদেশ জারি করেন। অধ্যাদেশ অনুযায়ী একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ঢাকা সেনানিবাসে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের বিচারের ঘােষণা দেয়া হয়। এই ঘােষনার পর জনগণ বুঝতে পারে অভিযুক্ত করা ঢাকা সেনানিবাসে বন্দী রয়েছেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসএ রহমানের নেতৃত্বে বিচারপতি মুজিবুর রহমান এবং বিচারপতি মকসুমুল হাকিমকে নিয়ে রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য মামলার বিচারের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়। সংশ্লিষ্ট আইনে এ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোনাে আপিল করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না' এটা দেখে কারও বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, আইয়ুব খানের প্রধান প্রতিপক্ষ জেলে থেকে বাংলার মুকুটহীন সম্রাটে পরিণত হওয়া শেখ মুজিবকে প্রহসনের বিচারে ফাঁসিতে হত্যা করাই পাকি চক্রান্তকারীদের মূল লক্ষ্য।
 
২০ জুন (১৯৬৮) ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি শুরু হয়। ১৯৬৭ সারের ৯ ডিসেম্বর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা শুরু হয়েছিল। এ সময় অভিযুক্তদের অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। পাকিস্তানি দস্যু বাহিনীর নির্যাতনে লে. কমান্ডার মােয়াজ্জেম হােসেনের একটি দাঁত পড়ে যায়। নির্যাতনের ব্যাপারে মনুষ্যরূপী ওই জানােয়ারদের দুই প্রধান হােতা ছিলেন পাকি গােয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা কর্নেল হাসান ও কর্নেল মােস্তাফিজুর রহমান। কর্নেল মােস্তাফিজ প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেও হিংস্র জানােয়ারের মতাে আচরণ করেছেন। যদিও মহান নেতা বঙ্গবন্ধু পরবর্তীকালে মােস্তাফিজকেও ক্ষমা করে দেন। এই মােস্তাফিজ পরে বিএনপিতে যােগ দিয়ে জিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং খালেদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। মামলা চলাকালে এক লিখিত জবানবন্দিতে বঙ্গবন্ধু বলেন, ঢাকা কারাগার থেকে দৈহিক বলপ্রয়ােগ করে তাকে সেনানিবাসে এনে একটি রুদ্ধ কক্ষে আটক রাখা হয়। এ সময় তাকে বহির্জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে নির্জনে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যসহ কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি। এ সময় কোন পত্রিকা পর্যন্ত দেয়া হয়নি। পাঁচ মাস দরে সমগ্র বিম্ব হতে বিচ্ছিন্ন রেখে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।
 
বিচার চলার সময় অভিযুক্তদের সেনানিবাসে রাখা হয়। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে অন্য আসামিরা তখন কথাবার্তা বলতে পারতেন। বঙ্গবন্ধু অন্যদের সব সময় সাহস দিতেন। তিনি বলতেন, আমাদের কিছু হবে না। একদিন তিনি বললেন, 'এখান থেকে বের হয়ে নির্বাচন করব। নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়লাভ করব। ওরা ক্ষমতা দিবে না। এরপর যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করব।'
 
শেখ মুজিবের মুক্তি এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে। ঊনসত্তরের শুরুতে ছাত্ররা ১১ দফা দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ওই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ১৯৬৯- এর ১৬ ফেব্রুয়ারি সব শ্রেণীর মানুষ রাজপথে নেমে আসে। বিক্ষুব্ধ জনতা ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এসএ রহমানের বাংলা একাডেমি ক্যাম্পাসে অবস্থিত বাংলা আক্রমণ করে। এসএ রহমান ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে নাইট ড্রেসেই দৌড়ে বাসা থেকে বের হন। বিমানবন্দরে গিয়ে ওই রাতেই লাহােরগামী বিমানে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। আন্দোলনের চাপে পিষ্ট আইয়ুব খান পিন্ডিতে গােলটেবিল বৈঠক ডাকেন। প্রথমেই মওলানা ভাসানী গােলটেবিলে না যাওয়ার ঘােষণা দেন এবং মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ সকল অভিযুক্তকে মুক্তির দাবি জানান ।। গণআন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হলে ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান আগরতলা মামলা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবসহ ৩৪ জন অভিযুক্তকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে স্মরণকালের বিশাল ছাত্র জনসভায় শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয়। এরপরের ইতিহাস সবার জানা।
 
এটা সত্য যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সামনে রেখেই দূরদর্শী শেখ মুজিব ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি জাতির সামনে পেশ করেছিলেন। তিনি জানতেন, পাকি সামরিক ও বেসামরিক চক্র ৬ দফা মানবে না। তারা নির্যাতনের পথ বেছে নেবে। মুজিব এটাও জানতেন, ৬ দফা একদিন এক দফা-তথা স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হবে। শেখ মুজিব সহকর্মীদের নিয়ে চারণকবির মতাে সারা বাংলা সফর করে মাত্র তিন মাসে ৬ দফাকে বাংলার মানুষের বাঁচার দাবিতে রূপান্তরিত করেন। দীর্ঘ সময় কারানির্যাতন ভােগ করে জেলে থেকেই তিনি বাংলার মানুষের সবচেয়ে জননন্দিত নেতা হয়ে যান। পাকিস্তান শােসকগােষ্ঠী চিরস্থায়ী রাজত্ব কায়েমের লক্ষ্যে তাদের পথের কাঁটা শেখ মুজিবকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১ নম্বর অভিযুক্ত আসামি বানায়। বাংলার মানুষ বুঝে যায়, তাদের প্রিয় নেতা মুজিবকে হত্যার জন্যই ওরা এই মামলা দিয়েছে। মামলার কার্যক্রম শুরু হলে ফরমে দাঁড়ায় উল্টো। এ সময় সাহসের বরপুত্র শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা অবিশ্বাস্য গতিতে বৃদ্ধি পায়। মামলা চলার সময় সওয়াল জবাবের রিপাের্ট প্রতিদিনের পত্রিকায় বেশ ফলাও করে প্রচারিত হতে থাকে। এতে শেখ মুজিবের এবং ৬ দফা দাবির যৌক্তিতা জনগণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময় পূর্ব বাংলা এবং বাঙালির প্রতি চরম বৈষম্যের কথা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ক্রমে বাঙালিদের মধ্যে গভীর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে।
 
পাকি চক্রের মূল লক্ষ্যই ছিল শেখ মুজিবকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং ভারতের সাহায্যে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে চিত্রিত করা। কথায় কথায় শেখ মুজিবকে গালি-গালাজ এবং ভারতের দালাল বলা হতাে। বঙ্গশার্দুল শেখ মুজিব তার লক্ষ্যে অটল থাকেন। এভাবে পাকিচক্রের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র শেখ মুজিবকে শেষ পর্যন্ত বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা এবং জাতীয় বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির পর শেখ মুজিব বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হন।
 
সত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব বাংলার প্রায় শতভাগ লােকের সমর্থন পান। পশ্চিম পাকিস্তানিরা নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ২৫ মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালায়। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘােষণা করেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, শেখ মুজিব ৬ দফা দিয়েছিলেন বলেই পাকিস্তানিরা তাকে আগরতলা মামলা দিয়ে ফাঁসিতে হত্যা করতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আগরতলা মামলা' ফাঁসির আসামি শেখ মুজিবকে শুধু বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেনি, বাংলার স্বাধীনতাও এনে দিয়েছিল। আর এ জন্যই ৬ দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
 
সূত্রঃ বঙ্গবন্ধু- স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা, ড. আনু মাহমুদ

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
  • জাটকা সংরক্ষণে কাল থেকে ৬ জেলায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ

  • উত্তরা-আগারগাঁও মেট্রোরেল দৃশ্যমান

  • সুনাম ছড়াচ্ছে আড়িয়াল বিলের করলা

  • সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
    মুজিববর্ষে অনন্য মাইলফলকে দেশ

  • আধুনিক বিশ্বের মতো উন্নত বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যাচ্ছে দেশ

  • আগাম আনারসে কৃষকের হাসি

  • চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন

  • জিএসপি প্লাস সুবিধা আদায়ে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে

  • ইচ্ছেকৃত ঋণখেলাপিদের গাড়ি ও বাড়ি ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আসছে

  • ১৭ দিনে দেশে টিকা নিয়েছেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ

  • মুশতাকের মৃত্যু
    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

  • বদলে যাবে এসিআর, আসছে এপিএআর

  • ১৯ বছর পর আরিচা-কাজিরহাট রুটে পুনরায় ফেরি সার্ভিস চালু

  • চট্টগ্রামে উদ্বোধনের অপেক্ষায় শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার

  • উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের অর্জন নতুন প্রজন্মের : প্রধানমন্ত্রী

  • ঝিনাইদহে ঘর পেলো ১শ’ ভূমিহীন পরিবার

  • ১৩ হাজার একর ভূমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল

  • ২০২১ সালেই দেশে আসবে হাইড্রোজেনচালিত কার

  • মানসম্মত তেল পাওয়ার লক্ষ্যে করা হচ্ছে সূর্যমুখী চাষ 

  • উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পেল বাংলাদেশ

  • ঢাকা–জলপাইগুড়ি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু ২৬ মার্চ

  • পিরোজপুরে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের ৬শ কোটি টাকার প্রকল্প

  • ৩০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য তৈরি হচ্ছে ‘বীর নিবাস’

  • দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে তুলসি পাতা

  • রকমারি সবজি দিয়ে ভেজিটেবল নাগেটস

  • বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ 

  • স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ : প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন আজ 

  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মানুষের নিরাপত্তার জন্য

  • উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

  • সুখবরের অপেক্ষায় বাংলাদেশ; বের হতে পারে এলডিসি থেকে

  • ৪০ হাজার যুবককে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার

  • নারী পুলিশকে আরও স্মার্ট করেছে স্কুটি

  • মসলিনের সোনালি যুগে ফিরছে বাংলাদেশ

  • বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার কর্মী নেবে সিঙ্গাপুর, রোমানিয়া

  • বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর

  • প্রতিযোগিতায় ভালো অবস্থানে পোশাক খাত

  • রাত-দিন চলছে কাজ, মেট্রোরেলের লাইন বসেছে ৭ কিলোমিটার

  • বিমান বাহিনীর একটা গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী 

  • তাঁতশিল্পকে আরো উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী করতে কাজ করছে সরকার

  • ‘তথ্যের স্বচ্ছতা-নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্লকচেইন ব্যবহার করছে সরকার’

  • হাসপাতাল পেয়ে খুশি ৪০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ

  • ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা 

  • নিবন্ধনের আওতায় আসছে অটোরিকশা-ইজিবাইক

  • ৫৭ লাখ কৃষক পেলেন ৩৭২ কোটি টাকার প্রণোদনা

  • আলোকিত হবে দ্বীপকন্যা ‘চর কুকরি-মুকরি’

  • রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

  • বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সুগভীর চান বাইডেন

  • ১৩ দিনে করোনার টিকা নিলেন ২৩ লাখ মানুষ

  • দিনরাত কাজ করে পদ্মা সেতু চালুর চিন্তা

  • বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপ্রিয় : প্রধানমন্ত্রী

  • উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

  • উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পেল বাংলাদেশ

  • মেয়েদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের প্রশংসায় এডিবি

  • বঙ্গবন্ধুর সততা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে

  • শখের ‘গ্লাডিওলাস’ ফুল চাষে সাফল্য

  • বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ 

  • ২০২১ সালেই দেশে আসবে হাইড্রোজেনচালিত কার

  • ১৩ হাজার একর ভূমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল

  • উত্তরাঞ্চয়ে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন, খুশি কৃষক

  • খুলনায় এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিকাম চাষ