বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সর্বশেষ:
আরও ১০৮ শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ সরকারি চাকরিতে লাখ লাখ পদ খালি, নিয়োগের উদ্যোগ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বৈঠক : সুবিধা পেতে সর্বোচ্চ জোর এলাকার উন্নয়নে প্রত্যেক সংসদ সদস্যরা পাবেন ২০ কোটি টাকা শিগগির চালু হবে বিরল স্থলবন্দর ১২ সিটির বর্জ্য রিসাইকেলের উদ্যোগ বিশ্ব নেতাদের নজর কেড়েছে শেখ হাসিনার ৬ প্রস্তাব
১২৪

অপশক্তি উন্নয়ন অভিযাত্রার পথ রুদ্ধ করতে পারবে না

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো অপশক্তিই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারার উন্নয়ন অভিযাত্রার পথ রুদ্ধ করতে পারবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নস্নাত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণের বিরামহীন পথপরিক্রমায় আমরা সবাই শামিল হয়েছি। আমাদের এই কষ্টসাধ্য কিন্তু অঙ্গীকারদীপ্ত স্বপ্নযাত্রায় বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের অবিচল আস্থা ও অকুণ্ঠ সমর্থন আছে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে জনগণকে নিয়ে আমরা আমাদের পবিত্র সংবিধান, গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদাকে সমুন্নত রেখেছি, ভবিষ্যতেও রাখব, ইনশা আল্লাহ। 

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ভোলা-২ আসনে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। 

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন অতটা খারাপ নেই। ডলারের সংকট এখন ঠিক সেরকম নেই, রপ্তানি আয়ও খুব একটা কমেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞায় পড়ে গেলাম, যার ফলে আমাদের কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের কিছু খরচের ব্যাপারে মিতব্যয়ী হতে হয়েছে, কিছু সংকুচিত করতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমরা এখন অতটা খারাপ নেই। ডলারের সংকট যথেষ্ট ছিল, এখন ঠিক সেরকম সংকট নেই। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে আমরা মনিটরিং বাড়িয়েছি। অনেক ক্ষেত্রে এলসি খোলার নামে যতটা প্রয়োজন নয়, তার চেয়ে বেশি দিয়েও অনেকেই এলসি খোলে, কিন্তু ওই টাকাটা ফেরত আসে না। এ কারণে সরকার পণ্য কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ব্লুমবার্গের মূল্য তালিকা দেখে, সেটা মনিটর করে এলসি খুলতে দেওয়া হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, এলসি খুলতে যে অসুবিধার কথা বলা হচ্ছে তা নয়, আগে যেভাবে যখন-তখন খোলা হতো, ইচ্ছামতো হচ্ছে না, সেটা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি আয় খুব একটা কমেনি। যেসব দেশে আমরা রপ্তানি করি, এমনকি যেগুলো খুব ধনী দেশ তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, বাজার সংকুচিত হয়েছে, সেখানে অর্ডার কমেছে। অর্থনৈতিকভাবে তারা খুব চাপে আছে, তাদের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারই ফলে হয়তো কিছুটা কমেছে। রপ্তানি আয় বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিকল্প বাজার খুঁজে বেড়ানো, রপ্তানিপণ্য বহুমুখীকরণে ব্যবস্থা নিয়েছি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কৃষক যথাযথ উৎপাদিত পণ্যের মূল্য না পেলে সমস্যা হবে। মূল্য বৃদ্ধি পেলে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ কষ্ট পাবে। 

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা গত বছর ২৮ অক্টোবর থেকে সহিংস কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে ৬০০-এর অধিক যানবাহন ভাঙচুর করেছে এবং নাশকতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। হরতাল ও অবরোধের নামে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২৮ অক্টোবর থেকে সহিংস কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে ভাঙচুর করা হয়, ১৮৪টি যাত্রীবাহী বাস; ৪৮টি ট্রাক, ২৮টি কাভার্ড ভ্যান/মালবাহী লরি/কনটেইনার, তিনটি সিএনজি, চারটি প্রাইভেট কার, ১১টি পিকআপ ভ্যান। পাঁচটি ট্রেন- যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন, ঢাকা কমিউটার ট্রেন, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন, টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন। ১৫টি মোটরসাইকেল, তিনটি লেগুনা, একটি ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস (মধ্যরামপুরা, ফেনী), একটি অটোরিকশা। এ ছাড়া একটি উচ্চবিদ্যালয় (চর শাহা উচ্চবিদ্যালয়, সোনাগাজী, ফেনী), ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহু বসতবাড়ি, একটি বৌদ্ধমন্দির (রামু, কক্সবাজার), একটি নৌকা, সর্বমোট ৩২৮টি যানবাহন ও প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো আহূত হরতাল-অবরোধে ড্রাইভার, হেলপার, পুলিশ, বিজিবি, শ্রমিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু লোক নিহত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন এবং বিএনপির ক্যাডাররা অসংখ্য যানবাহন জ্বালিয়ে দিয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী জানান, হরতাল-অবরোধের নামে নাশকতার ঘটনায় সারা দেশে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ট্রেনে নাশকতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ জন, বিজিবির দুজন আহত এবং একটি রিক্যুইজিশন করা যানবাহনের ক্ষতিসাধন করা হয়। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন জেলায় ৪৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। বিআরটিসি বাস ডিপোর বাস রক্ষা করতে গিয়ে একজন আনসার সদস্য ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন। এদের মধ্যে দুজন আনসার সদস্য হোসেন আলী ও সুমন আলী বিএনপি-জামাতের নেতা-কর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, অগ্নিসন্ত্রাস, নাশকতা, অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, হরতাল ও অবরোধের নামে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মাদারীপুর-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শাজাহান খানের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের নাশকতামূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সারা দেশে ২০১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ এবং ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ১০৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯৬৭টি মামলার বিচার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোতে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৪১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৪ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত যেসব মামলা হয়েছে, সেসব মামলার তদন্ত কাজ চলমান আছে। সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির গর্ব ও সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা বহুমুখী সেতু; যা ২০২২ সালের ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এবং ২০২২ সালের ২৬ জুন থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। উদ্বোধনের পর থেকে সেতু পারাপারকারী যানবাহন থেকে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৭০ কোটি ৮১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। উদ্বোধনের পর এক বছরেই (২০২৩ সালের ২৫ জুন পর্যন্ত) আয় হয়েছে প্রায় ৭৯৮ কোটি ২৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং দৈনিক গড় আয় প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখেছে। দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি জেলার সঙ্গে ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। এ ছাড়া বছরে শ্রমশক্তির প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশের কর্মসংস্থান ঘটেছে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বছরে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ দামের পণ্য ও সেবা উৎপাদন/রপ্তানি করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি শিল্প-কারখানা করতে চায় তারা যেন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জায়গা নিয়ে নেয়। যত্রতত্র যেন শিল্প-কারখানা গড়ে না তোলে। আর যদি গড়ে ওঠে তাহলে সেখানে গ্যাস, পানি বিদ্যুৎ বা কোনো সার্ভিস তারা পাবে না। আমরা চাই খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কৃষি জমি সংরক্ষণ করতে। আলী আজমের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ায় গত ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৮টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান তাঁকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। 

এ ছাড়া ২৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ৪১টি দেশ থেকে ১২৬ জন পর্যবেক্ষক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশে আসেন। সরকারিভাবে ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ৪৫ জন এবং স্বাধীনভাবে ৭৯ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ১৮ জন নির্বাচন কমিশনার ও তাদের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৮৪টি সংস্থার ২০ হাজার ৭৭৩ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ২৮টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৫৩৪ জন প্রার্থী এবং ৪৩৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নেন। সংসদ নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ২০০৯ সালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সব প্রশাসনিক, আর্থিক, আইনি, রেগুলেটরি ও লেজিসলেটিভ এবং নীতি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। 

বিরোধীদলীয় হুইপ মুজিবুল হক চুন্নুর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, আমাদের নিজেদের গ্যাস আছে। কূপ খননের মাধ্যমে নতুন গ্যাস ফিল্ড পেয়েছি। বাজারজাত করতে একটু সময় লাগবে। আপাতত ভোলার গ্যাস সিএনজি করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ইন্ডাস্ট্রিতে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এটা শুরু হয়েছে, ভালোভাবে চালু হলে গ্যাস সংকট আর থাকবে না। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আমরা বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। যেসব ব্যাংক ভালোভাবে চালাতে পারছে না সেগুলোকে আমরা একীভূত করে দিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা পদ্মা ব্যাংককে একীভূত করেছি। এভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, বসে নেই। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই প্রতিটি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৃণমূলকে সামনে রেখে আমরা করছি। উন্নয়ন থেকে কোনো অঞ্চল বঞ্চিত হয়নি।

পঁচাত্তরের পর এবার সবচেয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে : আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭৫ সালের পর অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনের মধ্যে এবারের নির্বাচন সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। নির্বাচনের আগে অনেক চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ছিল। বিএনপি নানা অপকর্ম করে নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছিল। কিন্তু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে, তাদের অধিকার প্রয়োগ করেছে। 

গতকাল দুপুরে গণভবনে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গণভবনে আমন্ত্রণ জানান নিজের জন্মস্থান ও নির্বাচনি এলাকা টুঙ্গিপাড়া উপজেলার আওয়ামী লীগসহ দলের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের নতুন যাত্রার পথ সহজ হবে না, নানা বাধাবিপত্তি আসবে। তবে তা মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

তৃণমূলে খেলাধুলার আয়োজন করুন : এর আগে সকালে গণভবন থেকে রাজশাহীতে ৫২তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৪’ এর চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যোগদান করেন। এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রতিভা অন্বেষণে এবং দেশের তরুণ সমাজকে ক্রীড়ানুরাগে উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের তৃণমূলে খেলাধুলার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, স্থানীয় প্রতিভাবানদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি করতে সব ধরনের আন্তস্কুল, আন্তকলেজ, আন্তবিশ্ববিদ্যালয়, আন্তজেলা এবং আন্ত-উপজেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করুন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাজশাহী শহরে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে সারা দেশের স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮২৪ জন ক্রীড়াবিদ এ চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ক্রিকেট স্টেডিয়াম আছে, ফুটবল স্টেডিয়াম আছে সেগুলো আলাদা। কিন্তু উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আমি মিনি স্টেডিয়াম করেছি একটা লক্ষ্য নিয়ে। সেখানে যে কোনো ধরনের স্পোর্টস হবে, খেলাধুলা চলবে, আন্তস্কুল, আন্তকলেজ, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা, উপজেলা পর্যন্ত খেলাধুলা হবে, যা আমাদের ছেলেমেয়েদের আরও সুযোগ করে দেবে নিজের দেশে ও বিদেশে দক্ষতা তুলে ধরতে। 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম তৈরি হয়ে গেছে। আরও কিছু বাকি আছে সেগুলোও তৈরি হয়ে যাবে। এটা তৈরি করার উদ্দেশ্য হলো সারা বছরই আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন কোনো না কোনো খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। 

তিনি বলেন, আমি মনে করি লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন হলে আমাদের ছেলেমেয়েরা মন মানসিকতার দিক থেকে আরও উদার হবে, উন্নত হবে, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। সেভাবেই তাদের গড়ে তুলতে হবে।

 তিনি বলেন, আমি আজকে সত্যিই আনন্দিত যে, আমাদের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ এই খেলাধুলার আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং এর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ‘দেশীয় খেলা’কে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক ভালো এবং মেধাবী। একটু সুযোগ করে দিলে তারা আরও ভালো করতে পারবে। 

তাছাড়া ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল, টেনিস, বাস্কেটবল, বেসবল, দৌড় প্রতিযোগিতা, হার্ডল রেস অথবা রিলে রেস অথবা ভারোত্তোলন বা যে খেলাধুলাগুলো রয়েছে সেগুলোতে আমাদের যেমন উৎকর্ষ অর্জন করতে হবে, তেমনি দেশীয় খেলাগুলো ডাংগুলি, হাডুডু থেকে শুরু করে বিভিন্ন খেলাধুলা যেগুলো আগে প্রচলিত ছিল, সেগুলোও আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, এভাবে আমাদের হাডুডু থেকে শুরু করে দেশীয় খেলাগুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে এ কারণে যে, এ খেলাগুলো যেন হারিয়ে না যায়। তিনি বলেন, আজকের যে শিশু-কিশোর তরুণ এরাই হবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক। যারা খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া এবং সবদিক থেকেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

রাজশাহী প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
  • ‌‘প্রাণিসম্পদে বিতর্কিত কাউকে ডিজি নিয়োগ না দেওয়ার দাবি’

  • বিএনপির জগাখিচুড়ি ঐক্যজোট এখন কোথায় : কাদের

  • বাংলাদেশ ও ঘানা ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে সম্মত

  • প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

  • গৌরবের অমর একুশে আজ

  • যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জাবি সহকারী অধ্যাপক বরখাস্ত

  • দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

  • স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য ও টিআর কার্ডে খাদ্য সহায়তা করছে সরকার

  • মুর্শিদাবাদ-রাজশাহী নৌপথের নবযাত্রা

  • মুর্শিদাবাদ-রাজশাহী নৌপথের নবযাত্রা

  • বিসিবির নতুন দায়িত্ব পেয়ে যা বললেন হাবিবুল বাশার

  • অভিনেতা ঋতুরাজ সিং মারা গেছেন

  • উপজেলা নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধিতে আসছে পরিবর্তন

  • দুই শিশুর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে আইইডিসিআর

  • শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগে জনপ্রশাসনের তাগিদ

  • ২১ গুণীজনকে একুশে পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

  • হুথি আক্রমণে সুয়েজ খালের আয় কমেছে ৫০ শতাংশ: মিশর

  • মানুষের মল দিয়ে জ্বালানি তৈরি কেনিয়ায়

  • নাভালনির সঙ্গে নিজের যে মিল দেখতে পান ট্রাম্প

  • গাজা ইস্যুতে ইউটার্ন, যুদ্ধবিরতি চায় যুক্তরাষ্ট্র

  • ২১ আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করা: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রাথমিকের দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল হতে পারে আজ

  • দাম কমলো সয়াবিন তেলের

  • তিউনিসিয়া উপকূলে নৌযানে অগ্নিকাণ্ড, ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

  • বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

  • কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কোনো হুমকি নেই : র‍্যাব ডিজি

  • দেশের বাজারে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম

  • ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল

  • ভাষা আন্দোলন ও আমাদের বঙ্গবন্ধু

  • খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী ফখরুলের বৈঠক

  • সংরক্ষিত নারী আসনে আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা

  • পিক আওয়ারে ৮ মিনিট পর পর মিলবে মেট্রোরেল

  • ফাগুন হাওয়ায় রঙিন ভালোবাসা

  • হাইওয়ে পুলিশ সদস্যের থাকবে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’

  • গঙ্গা নিয়ে আলোচনা শুরু করল বাংলাদেশ ও ভারত

  • সংখ্যা নয় দক্ষ ও অভিজ্ঞ ডাক্তার চাই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • চার ভাবনায় বাড়ছে মন্ত্রিসভার আকার

  • দেশের মানুষ এখন গণতন্ত্র উপভোগ করছে: প্রধানমন্ত্রী

  • দেড় হাজার রোহিঙ্গা যাচ্ছেন ভাসানচর 

  • বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উত্তোলনের পথে বাংলাদেশ

  • এআই বিষয়ক আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

  • নতুন রুটের সন্ধানে বিমান

  • বাগেরহাটে তৈরি ৪০ হাজার ‘কাঠের সাইকেল’ যাচ্ছে ইউরোপে

  • ডলারে আমানত রাখলেই করমুক্তি সুবিধা

  • ‘পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সাথে আইনগত চুক্তির উদ্যোগ’

  • নতুন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে কর নেটওয়ার্কে আনার উদ্যোগ

  • স্কোয়াশ চাষে লাভবান কৃষক

  • জিআই হিসেবে অনুমোদন পেল আরো ৩ পণ্য

  • চট্টগ্রাম বন্দরে রপ্তানিমুখী কনটেইনারের জন্য বসলো স্ক্যানার

  • পাইপলাইনের ঋণ দ্রুত ছাড়িয়ে আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • ধানমন্ডি লেকে নজরুল সরোবর করা হবে : তাপস

  • ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল

  • সাকিবকে বাদ দিয়ে শান্তকে অধিনায়ক, মুখ খুললেন পাপন

  • গ্রামীণের ৭ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে আইন মেনেই

  • বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর সাথে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

  • গাজায় যা হচ্ছে তা গণহত্যা : প্রধানমন্ত্রী

  • কুয়াকাটায় বিমানবন্দর নির্মাণে তোড়জোড়

  • দেশে সবুজ পোশাক কারখানা বেড়ে ২০৭

  • বিবিএসের তথ্য বলছে স্বস্তি ফিরছে খাদ্যপণ্যে

  • মুদ্রা বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন পদ্ধতি চালু